নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ১২তম মাউন্ট এভারেস্ট আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে নরসিংদীর প্রতিভাবান ছেলে- মেয়েরা। আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় ৮টি দেশের শক্তিশালী প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়ে নরসিংদীর খেলোয়াড়রা ৩টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে শুধু নরসিংদী নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে সমৃদ্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নরসিংদী জেলা কারাতে এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক (হেড কোচ) সেনসি রূপু আহমেদ। তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, দক্ষ প্রশিক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সেনসি রূপু আহমেদ নিজেও একজন কৃতী আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের কারাতেকা। তিনি ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৪ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক লাভ করেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে তিনি ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কারাতে ফেডারেশন কোচেস অ্যাক্রিডিটেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পাশাপাশি জাপানের ইয়োকোহামা থেকে কারাতে ফোর্থ ডেন অর্জন এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের কোচেস অ্যাক্রেডিটেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে “এ গ্রেড কোচ” সনদ লাভ করেন। ভারত, নেপাল, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নরসিংদীর খেলোয়াড়দের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরসিংদীতে কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মরক্ষার শিক্ষা দিয়ে মাদক, ইভটিজিং এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

সেনসি রূপু আহমেদ বলেন, “সরকারি ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা আরও বৃদ্ধি পেলে নরসিংদীর খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে বিশ্ব কারাতের সর্বোচ্চ পর্যায়েও দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবে।” ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্জন প্রমাণ করে সঠিক দিকনির্দেশনা, কঠোর অনুশীলন ও পর্যাপ্ত সুযোগ- সুবিধা পেলে জেলা পর্যায়ের খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা সমুন্নত রাখতে পারে। নরসিংদী জেলা কারাতে এসোসিয়েশনের এই সাফল্যে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।