স্টাফ রিপোর্টার:
বর্তমানে দেশে পরোক্ষ ধুমপানের শিকার ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী তামাক ব্যবহারকারী ৩৫ দশমিক ৩ ভাগ লোক। এর মধ্যে পরোক্ষ ধুমপায়ীর হার ১৮ ভাগ। ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর হার ২০ দশমিক ৬ ভাগ।
২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মোতাবেক এসমস্ত তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। এ কারণে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪৪৪ জন লোক মারা যাচ্ছে। প্রতিবছর মারা যাচ্ছে এক লক্ষ ৬১ হাজারেরও বেশী মানুষ। ফলে বাংলাদেশের অর্থনেতিক ও সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ কমিটি- নাটাব এর প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মদ।
সংশোধিত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন ও তামাক কোম্পানীগুলোর বেপরোয়া প্রচারণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে নরসিংদী জেলা সম্পাদক পরিষদের সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে নাটাব।
নাটাব এর প্রোগ্রাম অফিসার কানিজ ফাতেমা রুশির সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নাটাব নরসিংদী জেলা শাখার উপদেষ্টা মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ও মোঃ জসিম উদ্দিন, সাংবদিক হলধর দাস, মোঃ ফারুক মিয়া, সোহেল এস হোসেন বিপ্লব, মোঃ আমজাদ হোসেন, এস এম আরিফুল হাসান, লক্ষণ বর্মন. এনামুল হক রানা প্রমূখ।
নাটাবের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মদ বলেন, দেশে প্রাপ্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক সেবন করে ৩৫ দশমিক ৩ ভাগ লোক। ধুমপায়ীর হার ১৮ ভাগ, ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার ২০ দশমিক ৬ ভাগ ও কর্মস্থলে পরোক্ষধুমপানের শিকার প্রায় ৪২ দশমিক ৭ ভাগ। যার কারণে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশী ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত সংশোধিত খসড়া আইনগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ৬টি দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে- সকল প্রকার পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে ধুমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট আমদানি উৎপাদন ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাক জাত পণ্যের সকল প্রকার খুচরা শলাকা বিক্রয় বন্ধ করা এবং বিড়ি ও সিগারেটের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ৯০ ভাগ করা।